সেবা নাকি শয়তানের নীল নকশা?
ঘর। একই ছাদ। শ্বশুর— বাবার মতো। শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু...
পুত্রবধূ হিসেবে আপনি তার জন্য রান্না করবেন, তৃপ্তি ভরে ভাত বেড়ে দেবেন, অসুস্থ হলে পথ্য দেবেন। তার ময়লা কাপড়গুলো পরিষ্কার করবেন— এগুলো আপনার মহত্ত্ব এবং সওয়াবের কাজ।
কিন্তু সাবধান!
যখনই বিষয়টি শারীরিক স্পর্শে পৌঁছায়, যখনই বিষয়টি একাকী নির্জন কক্ষে গড়ায়, ঠিক তখনই শয়তান তার বিষাক্ত ডানা মেলে। বৃদ্ধ শ্বশুরের শরীর মালিশ করা, তাকে ধরে ধরে বাথরুমে নেওয়া কিংবা অতি ঘনিষ্ঠ হয়ে সেবা করা— আমাদের সমাজ এটাকে 'পুণ্য' মনে করলেও, শয়তান এই সুযোগেই তার সবথেকে বড় তীরটি নিক্ষেপ করে।
একবার নবীজী ﷺ ঘরে প্রবেশ করলেন। ঘরে তখন হযরত আবু বকর (রা.) বসা ছিলেন। আর আয়েশা (রা.)-এর কাছে একজন ব্যক্তি বসা ছিল। নবীজী ﷺ তাকে দেখেই রাগান্বিত হলেন এবং তাঁর পবিত্র চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল।
"হে আয়েশা! তোমরা ভালো করে লক্ষ্য করো তোমাদের ভাই কারা। কারণ দুগ্ধপানের সম্পর্ক তখনই সাব্যস্ত হয় যখন ক্ষুধার কারণে (শিশুকালে) দুধ পান করা হয়।"— (সহিহ বুখারী)
একটু ভাবুন! আম্মাজান আয়েশা (রা.)—যাঁর পবিত্রতার সাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ দিয়েছেন। হযরত আবু বকর (রা.)—যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত। তাঁদের উপস্থিতিতেও যদি নবীজী ﷺ পরপুরুষের অবস্থান দেখে রাগ করেন, তবে আপনার আমার ঘরে শ্বশুরের অতি ঘনিষ্ঠ শারীরিক সেবা কি নিরাপদ?
- আপনার হায়া (লজ্জা) আপনার শ্রেষ্ঠ ঢাল।
- ভাত বেড়ে দিন, কাপড় ধুয়ে দিন; কিন্তু শারীরিক স্পর্শ থেকে দূরে থাকুন।
- বাবার ব্যক্তিগত সেবা— ছেলের দায়িত্ব।
- মায়ের সেবা— সন্তানের ওপর ফরজ, পুত্রবধূর ওপর নয়।
[অন্য বোনদের সচেতন করতে পোস্টটি শেয়ার করুন]
পেইজটি ফলো করুন