"রমাদান এলে রাসূল (সা.) সাহাবীদের বিশেষ কোন সুসংবাদটি দিতেন?"

মাহে রমাদানের সওগাত
পুণ্য ও প্রতিদানের সুবাস নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত
মার প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন, রমাদান নেক আমলের বসন্ত। রমাদান তাকওয়া অর্জন ও ক্ষমা লাভের শ্রেষ্ঠ সময়। রমাদান আগ্রহ জাগায় বেশি বেশি জিকির-আজকার ও তাদাব্বুরের সাথে কুরআন তিলাওয়াতের।
রমাদান উদ্বুদ্ধ করে অধিক পরিমাণ দান-সদকার। রমাদান কিয়ামুল লাইল ও ইতিকাফের মাধ্যমে রবের সাথে সম্পর্ক গভীর করার সুবর্ণ সুযোগ। রমাদান লাইলাতুল কদর অন্বেষণের সময়। রমাদান আমাদের সবর ও সহনশীলতা শেখায়।
রমাদান শেখায় মুসলিম উম্মাহর প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা। রমাদান সাহস যোগায় জিহাদের পথে চলার। রমাদান স্মরণ করিয়ে দেয় বদরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বিজয় লাভের। রমাদানই শ্রেষ্ঠ সময় হিদায়াতের দিশা লাভের।
রমাদানই উত্তম সময় নিজেকে শুধরে নেয়ার। রমাদান আমাদের ছবক দেয় গুনাহ ছেড়ে নেক আমলের দিকে ফিরে আসার। রমাদান আমাদের শিক্ষা দেয় অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে জীবন পরিবর্তনের। রমাদান আমাদের সুসংবাদ দেয় জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের।
রমাদান উপস্থিত হলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবেগাপ্লুত অবস্থায় সাহাবীদের লক্ষ্য করে ঘোষণা দিতেন:
أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ، فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ، لِلَّهِ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ
"বরকতময় মাস রমাদান তোমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। এই মাসের রোজাকে আল্লাহ তোমাদের উপর ফরজ করেছেন। আসমানের দরজা সমূহ এ মাসে খুলে দেয়া হয়েছে, জাহান্নামের সবক'টি দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবাধ্য শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়েছে। এতে রয়েছে এমন এক রজনী, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়, সে সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়।"
তাই আসুন না প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন, আমরা এই রমাদানকে কদর করি। সব ধরণের পাপাচার ও অশ্লীল কাজকে পরিহার করি। রমাদানের সময়গুলো কাটাই তাকওয়া ও পুণ্য অর্জনে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

إرسال تعليق

أحدث أقدم